Blog

প্রথম মাসিকের সময় কী করতে হবে? অভিভাবকদের জন্য টিপস

ভূমিকা

প্রথম মাসিক প্রতিটি কিশোরীর জন্য একটি বড় এবং সংবেদনশীল পরিবর্তন। এই সময় তাদের শরীরের সাথে সাথে মনেও অনেক প্রশ্ন ও ভয় কাজ করে। একজন অভিভাবক হিসেবে এই সময়ে আপনার সহানুভূতি, সমর্থন ও সঠিক দিকনির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অভিভাবকদের জন্য কার্যকর টিপস

১. খোলামেলা কথা বলুন

পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা বা ভয় নয় — খোলাখুলি ও স্বাভাবিকভাবে আলোচনা করুন। মেয়েকে বুঝিয়ে বলুন, এটা একটি প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক ঘটনা।

২. আগে থেকেই প্রস্তুতি দিন

যখন মেয়ের বয়স ৯–১২ বছরের মধ্যে থাকে, তখন থেকেই মাসিক সম্পর্কে ধীরে ধীরে সচেতন করুন। স্বাস্থ্যবিধি, শরীরের পরিবর্তন, প্যাড ব্যবহারের নিয়ম শেখান।

৩. প্রথম মাসিকের দিন পাশে থাকুন

যদি আপনার মেয়ের প্রথম পিরিয়ড হয়, তাহলে তাকে আতঙ্কিত না হতে সাহস দিন। তাকে আশ্বস্ত করুন যে সে একা নয়, আপনি আছেন পাশে।

৪. স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার শেখান

সঠিকভাবে স্যানিটারি প্যাড পরিধান ও পরিবর্তনের নিয়ম ধীরে ধীরে শেখান। LadyCare প্যাড ব্যবহার করতে পারেন — যা কোমল, নিরাপদ এবং কিশোরীদের জন্য উপযোগী।

৫. হাইজিন বজায় রাখতে সাহায্য করুন

যোনি অঞ্চল পরিষ্কার রাখা, প্যাড সঠিকভাবে ফেলা, এবং দিনে ২-৩ বার প্যাড পরিবর্তনের অভ্যাস শেখানো জরুরি।

৬. ইমোশনাল সাপোর্ট দিন

প্রথম মাসিকের সময় অনেক মেয়েই ঘাবড়ে যায় বা লজ্জা পায়। তার অনুভূতিকে সম্মান দিন, কথায় সাহস দিন — “তুমি ঠিক আছো, এটা স্বাভাবিক”।

৭. প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

প্রথম মাসিকের পর যদি অতিরিক্ত ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা অন্য কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, একজন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।


❌ যেগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • মেয়েকে ভয় দেখানো বা চুপ করিয়ে রাখা
  • পিরিয়ডকে “নোংরা” বা “অলৌকিক” হিসেবে উপস্থাপন করা
  • “এটা এখন বলার সময় নয়” টাইপের মন্তব্য করা
  • ছেলেদের সামনে পুরো বিষয় গোপন রাখা
  • মেয়ের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া

💬 শেষ কথা

প্রথম মাসিক একটি মেয়ের জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। এটি যতটা শারীরিক, ততটাই মানসিক। আপনার আন্তরিকতা, ভালোবাসা আর সময় মেয়ের জন্য হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *